ভিপিএন কি? কিভাবে কাজ করে? [ সেরা ৮টি ফ্রি ভিপিএন ]

গুগল প্লে-স্টোর থেকে অনেকেই মোবাইল দিয়ে ভিপিএন ডাউনলোড করে। কিন্তু এই VPN-মূলত কিভাবে কাজ করে? ভিপিএন মানে কি? আজকে আমি VPN-নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। মানুষ ইন্টারনেটে VPN-দিয়ে নিষিদ্ধ সাইটগুলোতে প্রবেশ করে থাকে। আর এর মাধ্যমে কেউ বুঝতেও পারে না কীভাবে সে নিজের তথ্য গোপন করে ব্লক সাইটে প্রবেশ করছে। কিন্তু যে দেশ থেকে আপনি VPN-দিয়ে ব্লক সাইটে ভিজিট করছেন সেই দেশের ইন্টারনেট সার্ভারে আপনার আইপি অ্যাড্রেস চলে যাবে।

মানুষ নিজেকে ইন্টারনেটে হাইড করে রাখতে চাইলেও সেটা করা সম্ভব হয় না। একজন মানুষ যেমন চিনতে হলে ডিএনএ পরিক্ষা করা হয়- ঠিক তেমনই প্রতিটা ডিভাইসের একটি আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে যেটার মাধ্যমে আপনার ডিভাসটি স্বতন্ত্র ভাবে চিহ্নিত করা যায়। তাই আপনি চাইলেও ইন্টারনেটে নিজেকে লোকাতে পারবেন না।

ভিপিএন-এর-কাজ-কি

বর্তমানে VPN-মানুষ নানা ব্যবহার করে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আর তরুন-তরুণীদের কাছে ভিপিএন যেন এক জনপ্রিয় প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। আপনি কী জানেন VPN-কিসের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো? আসলে ভিপিএন বানানো হয়েছিলো বিজনেস ও বাণিজ্যিক ব্যাক্তিগত নেটওয়ার্কগুলোকে নিরাপদে সংযুক্ত করার জন্য।

ভিপিএন কি (What is VPN?)?

সহজ ভাষায় ভিপিএন হলো ব্যাক্তিগত নেটওয়ার্ক যার পূর্ণরুপ ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। VPN-এর কাজ হলো নিজের তথ্যগুলো গোপন রেখে নিরাপদে অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হওয়া।

ভিপিএন-কি

আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে ভিপিএন চালু করলে সাথে সাথে আপনার নেটওয়ার্ক অন্য দেশের নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট হয়ে যাবে। আর আইপি অ্যাড্রেসও পালটে যাবে। আর এভাবে আপনি অন্যদেশের ডিভাইস ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালাতে পারবেন।

ভিপিএন কিভাবে কাজ করে (How VPN works)?

যখন কোনো ব্যাক্তি VPN-চালু করে সাথে সাথে নিজের আইপি ও ডিভাইস বদলে যায়। কিন্তু আপনার আইপি প্রথমে নিজদেশের নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট হবে তারপর সেখান থেকে অন্যকোনো দেশের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হবে। আর ভিপিএন মূলত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (Computer network)।

উদাহরণস্বরূপ:- আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে VPN-ওপেন করে আমেরিকার কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন, তাহলে সর্বপ্রথম আপনার আইপি এড্রেস (IP address)-বাংলাদেশের ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট হবে। তারপর সেখান থেকে অ্যামেরিকার নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হবে। এভাবে মূলত VPN-কাজ করে।

how-vpn-works

এখন বাংলাদেশ থেকে যে ওয়েবসাইটগুলো আপনি ভিজিট করতে পারছেন না। যদি সেই ওয়েবসাইট আমেরিকা ব্লক না করে থাকে তাহলে ভিপিএন এর মাধ্যমে আমেরিকার নেটওয়ার্ক দিয়ে সেই সাইটে ভিজিট করতে পারবেন। আর এরজন্য আমেরিকা যেতে হবে না বাংলাদেশ থেকেই করতে পারবেন।

সুতরাং আপনি নিজের গোপনীয়তাকে রক্ষ্যা করার জন্য ভিপিএন ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যখন VPN-ইউজ করবেন তখন আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) একটি সিগনাল পাবে কিন্তু তাঁরা এর মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। ফলে আপনি কোন সাইটগুলোতে ভিজিট করছেন সেটা (ISP)-বুঝতে পারবে না।

মানুষ কেন VPN ব্যবহার করে?

বর্তমানে মানুষ ভিপিএন ব্যবহার করে থাকে নিজেকে নিরাপদ রেখে ব্লক সাইটগুলোতে ভিজিট করার জন্য। বাংলাদেশ থেকে এমন কিছু সাইট রয়েছে যেগুলো সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। কেউ চাইলেও বাংলাদেশের আইএসপি দিয়ে কোনো ভাবেই সেইসব সাইটে প্রবেশ করতে পারবে না যদি VPN-না ইউজ করে।

ট্র্যাকিং-ওয়েবসাইট

মনে করেন আমেরিকা একটি নতুন মুভি বেড় হয়েছে যেটা বাংলাদেশের আইএসপি ব্লক করে দিয়েছে। কোনো সাইট থেকেই মুভিটি ডাউনলোড করতে পারছেন না। কিন্তু আমেরিকা থেকে সেটা ডাউনলোড করার সুযোগ দিয়েছে। এখন আপনি চাইলেই ভিপিএন ব্যবহার করে আমেরিকার আইএসপি দিয়ে মুভিটি ডাউনলোড করতে পারবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ভিপিএন ব্যবহার করার সুবিধা (Advantages of using VPN)

আশা করি আপনি ভিপিএন ব্যহার করার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কিন্তু VPN-আপনাকে আরো অনেক ভাবে হেল্প করতে পারে। যখন আপনি পাবলিক প্লেসে বা কোনো হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করেন তখন ভিপিএন আপনাকে চরম ভাবে রক্ষ্যা করতে পারে।

ওয়াইফাই-হ্যাকার

যখন কোনো ব্যাক্তি ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে তখন সেই ওয়াইফাইদাতা চাইলে ব্যবহারকারির ডিভাইস ট্রাক করতে পারবে। এক্ষেত্রে একজন দক্ষ হ্যাকার হওয়াও জরুরী। আপনি তার ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কোন ব্রাউজারে কি ধরণের কাজ করছেন, কোন সাইটগুলোতে ভিজিট করছেন আপনার আইপি এড্রেস কি ইত্যাদি সব জেনে নিতে পারবে।

তাই ফ্রি ওয়াইফাই বা কারো হটস্পট ব্যবহার করার সময় ভি পি এন ওপেন করে কাজ করবেন। তাহলে আপনার যাবতীয় তথ্যগুলো গোপন থাকবে। সে চাইলেও আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সুতরাং এভাবে ভিপিএন ব্যবহার করে নিজেকে হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষ্যা করতে পারবেন।

ট্র্যাকিং ও লোকেশন গোপন করতে ভিপিএন

ইন্টারনেটে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট পাওয়া যায়। কিন্তু সব ওয়েবসাইট আপনার জন্য নিরাপদ নয়। এমন কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোর মধ্যে ভিজিট করার সাথে সাথে আপনার আইপি ট্র্যাক করা শুরু করে। ফলে আপনি কোথায় কী করছেন সব কিছু তাঁরা জেনে যায়। কিন্তু আপনি ভিপিএন ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে ভিজিট করলে লোকেশন ট্র্যাকিং থেকে বাঁচতে পারবেন।

ভিপিএন-কতটা-নিরাপদ

এছাড়া ইন্টারনেট টরেন্ট সাইট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন অবৈধ ফাইল শেয়ার করা হয়। সেই সাইটগুলো আপনি যদি ভিপিএন ছাড়া ভিজিট করেন তাহলে আপনার ইন্টারনেট কানেকশন স্লো করে দিতে পারে। শুধু তাই টরেন্ট সাইট আপনার লোকেশন ট্র্যাকিং করতে পারে তাই ভিপইএন ব্যবহার করে টরেন্ট সাইটে ভিজিট করবেন।

ভিপিএন আপনার জন্য কতটা নিরাপদ?

প্রযুক্তির জগতে কোনো কিছুই গ্যারান্টি সহকারে বলা যায় না সেটা নিরাপদ কি না। কিন্তু যারা জেনে শুনে ভালো জিনিষগুলো ব্যবহার করে সেগুলোই নিরাপদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সকল ধরণের VPN-আপনার জন্য নিরাপদ নয় এটা নিশ্চিত। ইন্টারনেটে বিভিন্ন অ্যাপস ও এক্সটেনশন পাওয়া যায় যেগুলোর মাধ্যমে ফ্রি ভিপিএন চালানো যায়। কিন্তু এটা কতটা নিরাপদ?

vpn-security

কিছু ফ্রি VPN-পাওয়া যায় যেগুলো তৈরি করা হয়েছে মানুষের তথ্যগুলো সংগ্রহ করার জন্য। আর এই তথ্য সংগ্রহ করে যেকোনো সময় আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। আপনি সব সময় চেষ্টা করবেন পেইড VPN-ব্যবহার করতে। যদি পেইড ভিপিএন ইউজ না করতে পারেন তাহলে জনপ্রিয় যে ভিপিএন অ্যাপস বা এক্সটেশন রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

VPN ব্যবহার করার উপায় (Ways to use VPN)

যারা ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কাজের জন্য VPN-ব্যবহার করে থাকে তাঁরা বেশিরভাগ নিজেরাই ভিপিএন সার্ভার তৈরি করে নেয়। অথবা কোথাও থেকে VPN-কিনে নেয়। আপনিও চাইলে ভিপিএন কিনে ব্যবহার করতে পারেন। যদি ভিপিএন ক্রয় করতে না পারেন তাহলে থার্ড পার্টি ফ্রি ভিপিএন ব্যবহার করতে পারেন যেগুলো আপনার জন্য অনেকটা নিরাপদ।

ভিপিএন-ব্যবহার-করার-উপায়

পেইড ভিপিএন ব্যবহার করলে আপনার ইন্টারনেট স্পিড ভালো পাবেন এবং বিজ্ঞাপন দেখাবে না। অন্যদিকে ফ্রি ভিপিএন ইউজ করলে ইন্টারনেট স্পিড তেমন একটা ভালো পাওয়া যায় না আর বিজ্ঞাপন দেখায়। অধিকাংশ VPN-বিক্রেতা দুটি প্ল্যান করে থাকে VPN-বিক্রয় করার ক্ষেত্রে ১। ফ্রি ভিপিএন ২। প্রিমিয়াম ভিপিএন।

আরো পড়ুন-

তাই আপনি যদি ব্যবসার জন্য VPN-ইউজ করেন তাহলে প্রিমিয়াম ভিপিএন ব্যবহার করাই ভালো। স্পিডও ভালো পাবেন এবং নিরাপদ ও সার্ভিস ভালো দিবে। অন্যদিকে ফ্রি VPN-ইউজ করলে ভালো রেটিং ওয়ালা ভিপিএনগুলো বেঁছে নিতে পারেন। সেগুলো নিরাপদ হলেও স্পিড কম পাবেন এবং বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকবে।

মোবাইল বা কম্পিউটারের জন্য কয়েকটি ভালো VPN-প্রোভাইডার হলো- Samsung Max-[অ্যাপস], ExpressVPN-[প্রিমিয়াম অ্যাপস], TunnelBear-[অ্যাপস], Hotspot Shield-[অ্যাপস], Touch VPN-[ক্রম এক্সটেনশন], DotVPN-[ক্রম এক্সটেনশন], Windscribe-[ক্রম এক্সটেনশন], Betternet-[ক্রম এক্সটেনশন] ইত্যাদি।

Samsung Max

এই ভিপিএনটি এন্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। গুগল প্লে-স্টোর থেকে ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবেন। এটা গুগল প্লে-স্টোরে খুবই জনপ্রিতা লাভ করেছে। এছাড়া এর রেটিং খুবই ভালো চাইলে আপনার গোপনীয়তা রক্ষ্যা করতে এই ফ্রী ভিপিএন (Free VPN)-ইউজ করতে পারেন।

ExpressVPN

যেকোনো ডিভাইসের জন্য এই VPN-ইউজ করতে পারবেন। শুধু তাই নয় এটার মধ্যে এক্সটেনশন রয়েছে যেটা দ্বারা আপনার ব্রাউজারে ইন্সটল করে VPN-চালাতে পারবেন। এই ভিপিএনটি ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বেস্ট কারণ এটা সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম একটি ভিপিএন। এছাড়া আপনি ব্যাক্তিগত ভাবেও ক্রয় করে চালাতে পারবেন।

TunnelBear

এই VPN-আপনি ফ্রিতে ইউজ করতে পারবেন এবং প্রিমিয়ামও ইউজ করতে পারবেন। ভিপিএনটি ব্যবহার করার জন্য যেকোনো ডিভাইসে এই অ্যাপস (Apps)-ইন্সটল করতে পারবেন। আপনি যদি এই VPN-ক্রয় করতে চান তাহলে তাঁরা আপনার জন্য একটি সুযোগ করে দিয়েছে সেটা হলো ৩০ দিনের মানি ব্যাক গ্যারান্টি।

Hotspot Shield

এই VPN-অনেক জনপ্রিয় এবং ভালো মানের একটি ভিপিএন। গুগল প্লে-স্টোরে ভিজিট করলেই এই ভিপিএন ডাউনলোড করে নিতে পারেবন এবং সম্পূর্ণ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এটার প্রিমিয়াম প্যাকেজও রয়েছে চাইলে যেকোনো ডিভাইসের প্রিমিয়াম অ্যাপস ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এছাড়া গুগল ক্রমেও এটা এক্সটেনশন পাওয়া যায়।

Touch VPN

যেকোনো ডিভাইসের জন্য এই VPN-ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া ব্রাউজারে এক্সটেশন (Extensions)-হিসেবে পাওয়া যাবে। ফ্রি ভিপিএনগুলোর মাধ্যে এটা খুবই জনপ্রিয়। আপনি চাইলে সম্পূর্ণ ফ্রি ডাউনলোড করে ইউজ করতে পারবেন। আপনার মতে উপরের সবগুলো VPN-কেমন মনে হয়? নিচে কমেন্ট করে জানান।

উপসংহার

আজকে আমি VPN-নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ভিপিএন কাকে বলে? ভিপিএন এর কাজ কি? ইত্যাদি প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনি ইন্টারনেটে নিজেকে হাইড গুপন রাখতে VPN-ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। তবে ভালো VPN-ব্যবহার করবেন এবং কোনো বেআইনি কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

About SM Shakil

আমি মোঃ শাকিল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করি ও এর পাশাপাশি আমি একজন আর্টিকেল রাইটার। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সাইটে ব্লগ পোস্ট পাবলিশ করি ও "BanglaAdvice.Com"-সাইটের (এডমিন) আমি। আমার সৃজনশীল মেধাশক্তিকে কাজ লাগিয়ে আর্টিকেল তৈরি করে থাকি এবং আমি একজন এসইও এক্সপার্ট।

Check Also

কষ্টের ভিডিও গান ডাউনলোড

কষ্টের ভিডিও গান ডাউনলোড করুন খুব সহজে

যখন আপনার মন ভালো না থাকে তখন এই কষ্টের ভিডিও গান ডাউনলোড করে দেখতে পারেন। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *