Wednesday , 21 October, 2020

টাকা জমানোর ১০টি কার্যকরী উপায়, বদলে দিতে পারে আপনার জীবনের মোড়।

আপনি কি টাকা জমানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না? তাহলে এই আর্টিকেলটি পড়ুন। কয়েক মাসের মধ্যে আপনার লাইফ স্টাইল বদলে যাবে। টাকা পয়সা জমানোর জন্য মানুষ কত উপায় অবলম্বন করে থাকে কিন্তু তবুও টাকা জমাতে ব্যার্থ হয়। মানুষ নানা ভাবে অর্থ উপার্জন করে থাকে কিন্তু টাকা হাতে রাখতে পারে না। কিভাবে টাকা খরচ হয়ে যায় তাও মানুষ খেয়াল রাখতে পারে না। আপনার মূলধন টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন টেকনিক ও কৌশল ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিটি পরিবার তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অর্থ সঞ্চয় করে থাকে। বিভিন্ন ভাবে মানুষ টাকা জমা করে যেমন- ব্যাংক বা বীমা। আবার কেউ টাকা জমা না রেখে বিভিন্ন ভাবে কাজে লাগায় যেমন- শেয়ার, বিজনেস ইত্যাদি। আপনি যদি টাকা জমানোর উপায় না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কীভাবে সহজ ভাবে টাকা পয়সা জমাতে পারবেন? বিস্তারিত জানতে নিচের স্টেপগুলো ফলো করুন

১। টাকা জমানোর মানসিকতা তৈরি করুন : একজন মানুষ মাসে লক্ষ কোটি টাকা আয় করলেও সে টাকা ধরে রাখতে পারে না যদি তাঁর মন মানসিকতা ঠিক না থাকে। তাই আগে আপনার সিদ্ধান্ত ঠিক করতে হবে এবং ভবিষ্যতের কথা মনে চিন্তা করতে হবে আপনার বন্ধু আপনার চেয়ে বেশি টাকা খরচ করছে তাই বলে আপনিও তার সাথে টাকা খরচের প্রতিযোগিতায় নামবেন বিষয়টা এমন হলে আজ থেকে বন্ধ করে দিন। আপনি এক বছর পর্যন্ত সঠিক ভাবে টাকা খরচ করে কিছু টাকা জমিয়ে রাখুন। তারপর এক বছর পর আপনার বন্ধুর অবস্থা আর আপনার অবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখুন।

দেখবেন আপনার বন্ধু আপনার করা কাজগুলোকে তখন প্রাধান্য দিবে। একটা কথা মনে রাখবেন মানুষ আপনাকে অনেক কিছু বলতে পারবে কিন্তু কেউ করে দেখাতে পারবে না। তাই কে কি বলছে সেই দিকে কান না দিয়ে নিজের মতো ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কাজ করুন।

২। রোজ বাইরের খাবার না খাওয়া : আমরা যদি প্রতিদিনের খরচটা একটু হিসেব করে দেখি তাহলে দেখবেন আপনার বাজে খাবারের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এমনিতেও বাইরের খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না।

আপনি যাদের সাথে বাইরের খাবার খান তাদের দিকে লক্ষ্য করুন। তাঁরা আপনার সাথে খাবারের বিল শেয়ার করছে কি না সেই দিকে লক্ষ্য করতে হবে। এই বলে আপনি বন্ধুদের সাথে চলাফেরা বন্ধ করে দিবেন বিষয়টা কিন্তু তা নয়। বাইরের খাবার যদি খেতেই মনে চায় তাহলে সবাই বিল শেয়ার করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর যদি সাথে খাওয়ার সময় বন্ধুরা বিল শেয়ার না করে তাহলে একা খাবার খাবেন। কারণ যে বন্ধু আপনার কথা চিন্তা করে না সেই বন্ধু আপনাকে যেকোনো সময় বিপদে ফেলে দিতে পারে। এছাড়া আপনি যদি বন্ধুদের নিয়ে বাইরের খাবার খেতে চান তাহলে অন্যান্য খরচগুলো কমিয়ে দিতে হবে।

৩। মোবাইলের খরচ কমাতে হবে : বর্তমান সময় এটা আমাদের একটা কমন খরচ বলা যেতে পারে। আপনি একটা জিনিস ভাবুন মোবাইল কেনার আগে আপনি কিভাবে টাকা খরচ করতেন আর এখন কিভাবে খরচ করেন। মোবাইল এমন একটা জিনিস যার মধ্যে টাকা খরচ না করলে মোবাইল আর চালাতে মনে চায় না।

আপনি হয়তো বোঝতে পারছেন আমি ইন্টারনেট বিল ও কথা বলার খরচের কথা বলছি। যদি আপনি একটা মাস শেষে একটা হিসেব করেন তাহলে আপনি বোঝতে পারবেন কত টাকা মোবাইলে খরচ করেছেন। আসলে মোবাইলে খরচ না করে বন্ধুদের সাথে রেস্টুরেন্টের যেয়ে খাবার খাওয়া অনেক ভালো। কারণ মোবাইল আপনার প্রশংসা করবে না কিন্তু একজন বন্ধু আপনার প্রশংসা করবে। আপনি এক মাস মোবাইলে খরচ না করে মোবাইলের খরচ করা টাকাগুলো জমিয়ে রাখুন আর দেখুন কত টাকা আপনার জমা হয়েছে। তাই টাকা জমানোর জন্য মোবাইলের খরচ কমিয়ে আনতে হবে।

৪। ব্রান্ডের পোশাক : আপনার জামা-কাপড়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অনেকে হাত খরচের দিকে লক্ষ্য না করে কিছু দিন পর পর নতুন পোশাক ক্রয় করে থাকে। কিন্তু পোশাক কেনার সময় তাও আবার ব্রান্ডের পোশাক কিনে থাকে। এটা একটা বাজে খরচ। আপনার যদি জামা-কাপড় কেনার প্রয়োজন পরে তাহলে ব্রান্ডের পোশাক কম ক্রয় করুন। আপনি হয়তো ব্রান্ডের পোশাক কিনে থাকেন আপনার বন্ধুর সাথে তা মিলিয়ে যেটা আপনার জন্য মোটেও ভালো নয়। পোশাক কেনার সময় অনেকে বন্ধুদের সাথে প্রতিযোগিতা নামে। কে কার চেয়ে দামি পোশাক কিনবে সেই আশায় থাকে। কিন্তু আপনার হাত খরচটা কেমন হচ্ছে সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনার ভাবতে হবে আপনি অতিরিক্ত টাকা খরচ করছেন কি না।

যেকোনো সময় টাকা খরচ করার করলে একবার ভেবে দেখবেন। দৈনন্দিন জামা-কাপড় পরার জন্য ব্রান্ড ছাড়া পোশাক পরলে আপনার কোনো ক্ষতি হবে বিষয়টা কিন্তু তা নয়। মনে ভালো পোশাক পরে স্মার্ট আর সম্মানি হওয়া যায় না। আপনার জ্ঞান বুদ্ধি দেখে মানুষ আপনাকে সম্মান দিবে। সুতরাং টাকা জমানোর জন্য ব্রান্ডের পোশাক কম পরতে হবে।

৫। বিলাসিতা কমাতে হবে : মানুষের হাতে কিছু টাকা আসলেই যেন বিলাসিতা বেড়ে যায়। কিন্তু এই বিলাসিতা এমন একটি অভ্যাস যেটা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। আপনার অধিক টাকা পয়সা থাকা সত্ত্বেও যদি টাকা কম খরচ করতে পারেন তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ উজ্জল হবে।

অনেকে আবার দেখবেন আপনাকে এই ব্যাপারে নানা ধরণের কথা শোনাবে। কেউ বলবে কিরে তোর এতো টাকা থাকতেও টাকা খরচ করিস না কেন? আবার কেউ বলবে এতো কিপটামি করিস কেন? এক্ষেত্রে আমি আগেই বলেছি মানুষ আপনাকে অনেক কিছু বলতে পারবে কিন্তু কেউ ভালো কিছু করে দেখাতে পারবে না।

তাই তাদের কথায় কান না দিয়ে নিজের মতো সীমিত টাকা খরচ করতে থাকুন। দেখবেন এক সময় তারাই এসে আপনাকে বলবে দোস্ত তোর মতো এতো দিন চলতে পারলে আমিও আজ তোর মতো এতো ধনী হতে পারতাম। তাই টাকা জমানোর জন্য বিলাসিতাকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের ভবিষ্যতকে প্রাধান্য দিন।

৬। ইনস্যুরেন্স করুন : এটা একটি ভালো টাকা জমানোর উপায় কারণ মানুষের কাছে টাকা থাকলে টাকা ধরে রাখতে পারে না শুধু মাত্র সঠিক জায়গায় টাকা না রাখায়। টাকা পয়সা জমানোর জন্য মানুষ হাজার চেষ্টা করলেও টাকা আর জমাতে পারে না। আসলে আপনি যতই চেষ্টা করে নিজের কাছে টাকা রাখেন না কেন একদিন সেটা খরচই করে ফেলেন। তাই আপনার একটি বীমা বা ইনস্যুরেন্স করার প্রয়োজন। আপনার জীবনে ঘটে যেতে পারে অনেক কিছু। তাই ছোট বেলা থেকেই কিছু টাকা জমিয়ে রাখুন ইনস্যুরেন্সের মাধ্যমে। আপনার যেকোনো বিপদ-আপদে এই ইনস্যুরেন্স অনেক কাজে দিবে।

প্রতিদিন খরচের কিছু অংশ একটু একটু করে জমাতে থাকুন। যখন মোটামুটি একটা অংক আসবে তখন ইনস্যুরেন্সের মাধ্যমে টাকাগুলো জমিয়ে রাখবেন। আপনি যদি পরিবারের সবাইকে না জানিয়ে একটি ইনস্যুরেন্স করে কিছু টাকা জমাতে পারেন তাহলে এক সময় পরিবারকে জানালে দেখবেন তাঁরা কতটা খুশি হয়। নিজের পরিবার ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপনার শুরু থেকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। কিছু টাকা জমিয়ে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারলে সবাই আপনাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিবে এবং ভালোবাসবে।

৭। যানবাহনে নজর দিন : বর্তমানে মানুষ দিন দিন অলস হয়ে যাচ্ছে। ফলে কম পরিশ্রমের কারনে রোগ-বালাই বেশি হচ্ছে। আপনি যদি যানবাহনের দিকে নজর না দেন তাহলে আপনার নানা ধরণের সমস্যার পাশাপাশি টাকা খরচ কমাতে পারবেন না। ১০ মিনিটের একটা রাস্তায় অনেকে রিকশা বা অটো ভাড়া করে থাকে। এর জন্য খরচ করচ করতে হয় ২০-৩০ টাকা। কিন্তু সেই সময়ের জন্য আপনার কাছে খরচটা কম মনে হলেও মাস শেষে আপনি যদি যানবাহনের হিসেব করেন তাহলে দেখবে সবচেয়ে বেশি সেখানেই খরচ হয়েছে। শুধু তাই নয় অলসতার কারনে আপনার আরো বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে।

যারা অলসতা বেশি করে তাদের রোগ-বালাই বেশি হয়। এতে আপনার খরচ হতে পারে অনেক টাকা। একটা মানুষের টাকা পয়সা শেষ করার জন্য একটা রোগই যথেষ্ঠ। তাই সুস্থ থাকার জন্য পরিশ্রম করতে হবে এবং টাকা জমানোর জন্য পরিশ্রমকে কাজে লাগাতে হবে। সুতরাং বেশি প্রয়োজন ছাড়া যানবাহনে চলাফেরা না করাই ভালো।

৮। ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করুন : টাকা জমানোর উপায় এর মধ্যে অন্যতম একটি সঞ্চয় স্থান হচ্ছে ব্যাংক। একটি ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করে আপনার জমানো টাকা সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। অনেকে টাকা জমিয়ে কিছু দিন রাখলেও পরে সেটা খরচ করে ফেলে। তাই আপনি যদি একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলেন তাহলে টাকা জমানোর একটা মন মানসিকতা সৃষ্টি হবে।

যখন টাকা খরচ করতে যাবেন তখন আপনার মনে পড়ে যাবে মাস শেষে ব্যাংকে টাকা জমানোর কথা। এটা হবে আপনার ভালো একটি টাকা সঞ্চয় করার কৌশল। মনে রাখবেন ছোট কিছু শুরু করলেই বড় কিছু করতে মনে চায়। যেকোনো কিছু শুরু করার জন্য প্রয়োজন মন মানসিকতা। ভবিষ্যতে কি করবেন সেই কথা একবার চিন্তা করলে টাকা জমানোর কথা সব সময় মনে থাকবে। আপনার চেয়ে কেউ বেশি টাকা খরচ করে সবার কাছে প্রশংসিত হচ্ছে সেই দিকে কখনোই মন দিবেন না। কিছু দিন পরে দেখবেন সে ফাকা পকেট নিয়ে বসে আছে। তাই প্রতিদিন কিছু খরচ কমিয়ে মাস শেষে ব্যাংকে জমা রাখুন।

৯। দৈনন্দিন খরচের হিসাব রাখুন : টাকা জমানোর অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে প্রতিদিনের খরচগুলো একটা লিস্ট করে রাখা। আপনি খরচগুলো একটি তালিকার মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন তাহলে মাস শেষে একটা হিসাব করতে পারবেন। কোথায় কিভাবে আর কেন খরচ করেছেন খুব সহজেই বোঝতে পারবেন।

যেখানে বেশি খরচ করছেন সেখানে কতটা খরচ করলে আপনার আয় হবে সেই দিকে লক্ষ্য রাখবেন। বাজে খরচগুলো সব সময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। অনেকে মোবাইলে বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট চালনোর জন্য মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ফেলে। এছাড়া যাদের ছেলে বন্ধু/মেয়ে বন্ধু আছে তাঁরা বিভিন্ন ভাবে আবেগে পরে নানা ধরণের বাজে খরচ করে থাকে।

হ্যাঁ ছেলে বন্ধু/মেয়ে বন্ধু সবারই থাকতে পারে এটা কোনো অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু একসাথে থাকার সময় খরচটা কম করার চেষ্টা করবেন। আর এই খরচ কমানোর জন্য পরিস্থিতি বুঝে টেকিনিক খাটাতে হবে। সুতরাং দৈনিক কোন কোন খাতে বেশি ব্যায় করলে সেটার দিকে আপনার লক্ষ্য রাখতে হবে।

১০। ব্যবসায় টাকা লাগান : টাকা আয় করার জন্য অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে ব্যবসা করা। আপনার কাছে যদি ভালো মানের টাকা থাকে তাহলে সেই টাকা ঘরে না রেখে বিজনেস করে কয়েকগুণ বেশি আয় বাড়িয়ে নিতে পারেন। এই কৌশলটি টাকা জমানোর পাশাপাশি আয় রোজগার করার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে। আপনি যখন ব্যবসায় টাকা লাগাবেন তখন আপনার বাজে খরচগুলো করতে মন চাইবে না। ফলে আপনার এক দিকে যেমন আয় হচ্ছে অন্যদিকে বাজে খরচ করার মন মানসিকতা দূর হচ্ছে। এভাবে আপনি বাজে খরচ থেকে বিরত থাকতে পারবেন। আর ব্যবসা করে আয় রোজগার করতে পারবেন।

এছাড়া যারা বিজনেস করার জন্য টাকা ধার চায় তাদের কাছে টাকা জমা রাখতে পারেন। তারাও আপনাকে কিছু লাভ শেয়ার করবে এবং আপনার টাকাও জমা থাকবে। সুতরাং টাকা থাকলে বিভিন্ন ভাবে কাজে লাগিয়ে আয় রোজগার বাড়াতে পারেন।

সর্বশেষ : টাকা জমানোর উপায় নিয়ে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। এছাড়া আরো কোনো বিষয়ের উপর আর্টিকেল প্রয়োজন হলে অবশ্যই জানাবেন। আর আর্টিকেলটি উপকারে আসলে সবার কাছে শেয়ার করবেন।

About Lipu Chowdhury

Check Also

বিয়ে হয়েছে অনেক বছর কিন্তু সন্তান হয়নি, দম্পতি জানতই না এর জন‍্য শা*রীরিক মি*লন দরকার!

বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর কেটে গিয়েছে তাদের। সব স্বামী-স্ত্রী মতোনই তারা দুজনেই চান তাদের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *