এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করবেন কিভাবে? [ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ]

অনলাইনে মার্কেটিং করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)-অনেক জনপ্রিয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ হলো কোনো পণ্য প্রচার-প্রচারণা করার মাধ্যমে বিক্রয় করা। আমাজন থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা যায় খুব সহজেই। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার জন্য ব্লগ সাইট বা ইউটিউব টিউটোরিয়াল যেকোনো মাধ্যম বেঁছে নিতে পারেন। তবে আজকে আমি “বাংলা এডভাইস” সাইটে এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করবো।

ইন্টারনেট মার্কেটিং (Internet Marketing)-করার অন্যতম মাধ্যম হলো ব্লগ সাইট বা ই-কমার্স ইত্যাদি। তবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ব্লগ সাইট বা ইকমার্স সাইট দুইটাই বেঁছে নিতে পারেন। মূলত আপনার নিশ অনুযায়ী বুঝে নিতে হবে কোন মাধ্যমটি আপনার জন্য সবথেকে ভালো হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং টিউটোরিয়াল

যাইহোক আমি আজকে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা যায়? এর কাজ কি? ইত্যাদি জানার চেষ্টা করবো। তার আগে মনে রাখবেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ। আর ডিজিটাল মার্কেটিং হলো অনেক বড় একটি পার্ট, যেটা নিয়ে আমি পরবর্তি সময় আলোচনা করবো।

অনলাইন মার্কেটিং কেন করবেন (Why do online marketing)?

সাধারণত অনলাইন মার্কেটিং অনেক সহজ ও খুব সহজেই নির্দিষ্ট গ্রাহকের কাছে পণ্যের প্রচার-প্রচারণা করা যায়। আর এতে মার্কেটিং করার জন্য অর্থ খরচ হয় কম। আপনার দোকানের কোনো পণ্য যদি বিক্রয় কম হয় বা নির্দিষ্ট কাস্টমার পাচ্ছেন না তাহলে অনলাইনে মার্কেটিং করার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধাণ করতে পারবেন।

অনলাইন মার্কেটিং করার আরো একটি সুবিধা হলো নিজের পণ্য না থাকা সত্ত্বেও ঘরে বসেই মার্কেটিং করার মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সেই প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করার মাধ্যমে আপনি কমিশন লাভ করতে পারবেন। আর এটাই হলো অনলাইন মার্কেটিং এর সবথেকে মজার বিষয়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি (What is affiliate marketing)?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে পণ্য বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে এফিলিয়েট লিংক নিয়ে প্রচার-প্রচারণা করাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। মূলত যে মার্কেটপ্লেসগুলো এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সুযোগ দেয় তাদের পণ্যগুলোই আপনি প্রচার-প্রচারণা করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

যখন কোনো মার্কেটপ্লেসে এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে রেজিস্ট্রার করবেন তখন সেই মার্কেটের মধ্য থেকে আপনাকে একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রোভাইট করা হবে। আর সেই লিংকের মাধ্যে যদি মার্কেটিং তাদের পণ্যগুলো বিক্রয় করে দিতে পারেন তাহলেই সেখান থেকে কমিশন অর্জন করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে সবগুলো অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক একই ধরণের কমিশন প্রধান করে না। তাছাড়া প্রোডাক্ট অনুযায়ী কমিশনও ভিন্ন ভিন্ন রকমের হতে পারে। তাই কোনো এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক বা প্রোগ্রাম থেকে যদি আয় রোজগার করতে চান তাহলে কমিশন কত দেওয়া হবে সেটা একটু দেখে নিবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বোঝার সহজ উপায় :

অনেকই জানে না অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে তাই আমি একটি উদাহরণের মাধ্যমে এই ব্যাপারটি বলছি – মনে করেন আপনি একজন ইংলিশ আর্টিকেল রাইটার। নিজের একটি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখি করেন। এখন আপনার সাইটে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর আসছে এবং সেখান থেকে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করছেন।

এখন আপনি এই সাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে চাইছেন এবং আমাজনে এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে একাউন্ট খুলেছেন। আর আমাজন থেকে একটি এফিলিয়েট লিংক দেওয়া হয়েছে যেটার মাধ্যমে আমাজনের পণ্য বিক্রয় করে কমিশন পাবেন।

এবার আমাজনের একটি পণ্য সম্পর্কে আপনার ওয়েবসাইটে রিভিউ তৈরি করে পোস্ট করলেন। আর সেই রিউভির মধ্যে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক (Affiliate link)-বসিয়ে দিয়েছেন বলেছেন “পণ্যটি পছন্দ হলে এখানে ক্লিক করে ক্রয় করতে পারেন”।

এখন যারাই অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করবে সেখান থেকেই আপনার কমিশন আসতে থাকবে। মূলত এভাবেই এফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করে। ওয়েবসাইট বা ইউটিউবের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার অন্যতম একটি সুবিধা হলো আপনি এর সাথে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

কেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন (Why do affiliate marketing)?

অনলাইনে যত মার্কেটিং রয়েছে তার মধ্যে সবথেকে ভালো হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। কারণ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য নিজের কোনো পণ্যের দরকার হয় না ও বেশি লাভবান হওয়া যায় এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং করেই ক্যারিয়ার গড়া যায়। আর এফিলিয়েট মার্কেটিং করাও অনেক সহজ।

সবথেকে মজার ব্যাপার হলো আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকের মধ্যে ক্লিক করে তখন ভিজিটর যদি পণ্য নাও কিনে কোনো সমস্যা নেই। কারণ আপনার এফিলিয়েট লিংকের মধ্যে কোনো ভিজিটর ক্লিক করলে একটা ট্র্যাকিং সৃষ্টি হয় যেটার মেয়াদ থাকে ২৪ ঘন্টা। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই ভিজিটর যত পণ্য ক্রয় করবে সেখান থেকে আপনার কমিশন আসতে থাকবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনাকে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। আপনি শুরুতেই কোনো মাধ্যম ছাড়াই এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)-শুরু করতে পারবেন না। অনলাইনে সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগ বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট দরকার হবে।

আপনার যদি এর মধ্যে যেকোনো একটি থাকে তাহলে এখনই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে দিতে পারেন। আর যদি শুরুতেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে আপনাকে পেইড মার্কেটিং করতে হবে। অর্থাৎ টাকা দিয়ে ভিজিটর বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লাইক নিয়ে আসতে হবে।

তাই আপনি আগে যেকোনো একটি মাধ্যম বেঁছে নিয়ে ভিজিটর আনার চেষ্টা করুন। অনলাইনে যেকোনো কাজই প্রথম দিকে একটু পরিশ্রম করতে হবে। তাই আপনি একটু পরিশ্রম করে ভিজিটরের ব্যবস্থা করুন। আর যদি পরিশ্রম করতে না চান তাহলেতো পেইড মার্কেটিং আছেই।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার যে বিষয়গুলো লাগবে সেগুলো নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। আশা করি নিচের ধাপগুলো বেঁছে নিয়ে নিজেও এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারবেন। তাহলে চলুন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায় জেনে নেই।

১। নিশ নির্বাচন

আপনি যেমন অনলাইনে ইনকাম করার জন্য এতোগুলো উপায়ের মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বেঁছে নিয়েছে। ঠিক তেমনি ভাবে কোন ধরণের বিষয় নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন সেটা নির্বাচন করতে হবে। আপনি চাইলে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে যেকোনো বিষয়ের উপর আর্টিকেল লেখা শুরু করতে পারেন। মনে রাখবেন বাংলা আর্টিকেল তৈরি করলে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফলতা অর্জন করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যাবে। তাই ইংরেজিতে আর্টিকেল লেখা শুরু করুন।

২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যম নির্বাচন করুন

আপনি কিসের মাধ্যমে ভিজিটর নিয়ে এসে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করবেন সেটা নির্বাচন করতে হবে। অনলাইনে অনেক মাধ্যম রয়েছে যেমন- ওয়েবসাইট, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি। আমি এই তিনটা মাধ্যমে কথা বেশি বলছি কারণ এগুলো সবথেকে জনপ্রিয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো হবে আপনি যদি ডোমেইন-হোস্টিং ক্রয় করে একটি ওয়েবসাইট তৈরী করেন। খুব অল্প খরচেই এখন বাংলাদেশ থেকে ডোমেইন-হোস্টিং ক্রয় ওয়েবসাইট খুলে নিতে পারবেন।

৩। এফিলিয়েট প্রোগ্রাম নির্বাচন করুন

অনলাইনে অনেক ধরণের অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক রয়েছে যারা বিভিন্ন মার্কেটারদের মার্কেটিং করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি নিচে কয়েকটি এফিলিয়েট প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করেছি। সেগুলোর মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট বানিয়ে বিভিন্ন রকম আর্টিকেল পাবলিশ করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে একটি সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। তাছাড়া ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমেও এভাবে টাকা আয় করা যাবে।

৪। এফিলিয়েট নেটওয়ার্কে একাউন্ট করুন

আপনি যেকোনো একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটে একাউন্ট খুলে রেজিস্ট্রেশন করে নিন। আর সেখান থেকে মার্কেটিং করার জন্য যে লিংক প্রোভাইট করে হবে সেটা দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট খুলার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

ইউটিউবের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং :

আপনি যদি ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ইউটিউবের মাধ্যমেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে। আর আপনার এফিলিয়েট প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করে দিবেন। আর ভিডিওর ডেসক্রিপশনে প্রোডাক্ট সম্পর্কে কিছু লিখে আপনার এফিলিয়েট লিংকটি বসিয়ে দিবেন। তাহলেই ইউটিউবের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং :

অনলাইনে অনেক ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে যেমন- ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি। আপনি যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া বেঁছে নিয়ে একাউন্ট খুলে নিতে পারেন। আর ফেসবুকের জন্য একটি বিজনেস পেজ তৈরি করে ফেলুন। আর আপনার এফিলিয়েট প্রোডাক্ট সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দিতে থাকুন সোশ্যাল মিডিয়াতে। আর পেজে লাইক বাড়ানোর জন্য পেজ প্রমোট করতে পারেন। ফলে আপনার লাইক বাড়বে এবং মানুষ সেখান থেকে পণ্য সম্পর্কে জেনে আপনার দেওয়া অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে পণ্য ক্রয় করবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায় :

অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার অনেক উপায় পাবেন। কিন্তু মানুষ সবথেকে যে পদ্ধতি বা কৌশল অবলম্বন করে তা হলো- ব্লগ সাইট, ইউটিউব, ই-কমার্স সাইট, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি। এই পদ্ধতিতে মানুষ এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করছে। আর এটাই হলো ভিজিটর বা পণ্যের কাস্টমার পাওয়ার অন্যতম উপায়।

এখন এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যে মার্কেটপ্লেসগুলো আপনার জন্য ভালো হবে সেটা হলো- আমাজন, ইবে, এনভাটো, ক্লিক ব্যাংক, ফ্লিপকার্ট ইত্যাদি। এই মার্কেটগুলো ছাড়াও আরো অনেক অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম রয়েছে যার থেকে মার্কেটিং টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এই মার্কেটপ্লেসগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং :

সারা বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট হলো “Amazon.Com”। ১৯৯৪ সালে তৈরি হওয়া এই আমাজন মার্কেটপ্লেস সারা পৃথিবীতে প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে। আমাজন একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশলান প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান। আমাজন ভালো মানের হওয়ায় সবাই এখান থেকে প্রোডাক্ট ক্রয় করে। এরজন্য আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার সুবিধা করে দিয়েছে।

আমাজন থেকে সবাই অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট তৈরি করে ইনকাম করতে পারবে। যেকোনো ভাবে মার্কেটিং করার মাধ্যমে আমাজন পণ্য বিক্রয় করে দিতে পারলে আপনাকে সেই বিক্রয় থেকে ১০% কমিশন দেওয়া হবে। আপনি চাইলে আমাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে টাকা ইনকাম শুরু করতে পারেন।

ইবে এফিলিয়েট মার্কেটিং :

বিশ্ব বিখ্যাত অনলাইন শপিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মাধ্যে ইবে অনেক দিন ধরেই রাজত্ব করে আসছে। অনেক আগে থেকেই ইবে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করেছে। কয়েক মিলিয়ন প্রোডাক্ট নিয়ে তাঁরা বর্তমান বাজারে টিকে আছে। এছাড়া এদের কাস্টমারও রয়েছে বহুগুণ।

ইবে থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি প্রতিটি পণ্য বিক্রয় করে দেওয়ার মাধ্যমে কমিশন লাভ করতে পারবেন। এরা প্রতিটি পণ্যের জন্য একই রকম কমিশন প্রদান করে না। আপনাকে তাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম কার্ড দেখে নিতে হবে। সুতরাং আপনি চাইলে এই মার্কেট থেকেও এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন।

এনভাটো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং :

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটপ্লেস বিভিন্ন অ্যাপলিকেশন ও গ্রাফিক্স এর জন্য জনপ্রিয়। এই মার্কেটপ্লেস অনেক বড় যার কারনে এর থেকে প্রোডাক্ট বেচাকেনা হয় কয়েকগুণ বেশি। এনভাটো মার্কেতপ্লেস এর অধীনে আরো কয়েকটি মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন- themeforest.net, graphicriver.net, photodune.net, videohive.net, 3docean.net-ইত্যাদি।

এফিলিয়েট প্রোগ্রামের মধ্যে এই মার্কেটপ্লেস অন্যতম। এই মার্কেটপ্লেস থেকে কোনো প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে বিক্রয় করে দিতে পারলে আপনাকে সেই বিক্রয় থেকে ৩০% কমিশন দেওয়া হবে। যেটা অন্যান্য মার্কেটপ্লেস থেকে কয়েকগুণ বেশি। আমি আপনাকে রিকুমেন্ট করবো এই মার্কেটের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য।

ক্লিক ব্যাংক এফিলিয়েট মার্কেটিং :

সারা ওয়ার্ল্ডের সবথেকে জনপ্রিয় এফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলো ক্লিক ব্যাংক। এই প্রোগ্রাম থেকে আপনি সবচেয়ে বেশি কমিশনে প্রোডাক্ট বিক্রয় করতে পারবেন। আপনি যদি ক্লিকব্যাংক মার্কেটের কোনো পণ্য বিক্রয় করে দিতে পারেন তাহলে প্রায় ১-৭৫% পর্যন্ত কমিশন পেতে পারেন। “Oo My Good”-এটা অনেক বেশি।

আপনি যত অ্যাফিলিয়েট মার্কেট পাবেন তার মধ্যে সবথেকে বেশি কমিশন দিবে ক্লিক ব্যাংক। আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা আয় করতে চান তাহলে ক্লিক ব্যাংক প্রোগ্রামে জয়েন করতে পারেন। আমি আপনাকে এই ক্লিক ব্যাংক প্রোগ্রামের জন্যও রিকুমেন্ট করব।

ক্লিক ব্যাংক থেকে আয় করার জন্য তাঁরা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক খুলে দিয়েছে। ক্লিক ব্যাংক নেটওয়ার্কের প্রোডাক্ট গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। ফলে আপনি যদি ক্লিক ব্যাংকের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করেন তাহলে আপনি দ্রুতই সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

ফ্লিপকার্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং :

অনলাইন শপিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে ফ্লিপকার্ট সেরাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ফ্লিপকার্ট মার্কেটে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে শুরু করে খাবার-দাবার ও জামাকাপড় ক্রয় করা যায়। এই অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক থেকে আপনি কোনো বিক্রয় করিয়ে দিতে পারলে প্রায় ১২% এর মতো কমিশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ফ্লিপকার্ট এর হেডকোয়ার্টার্স হলো ইন্ডিয়ার মধ্যে। সকল ধরণের প্রোডাক্ট থেকে একই ধরণের কমিশন পাওয়া যাবে না। এর জন্য আপনাকে দেখে নিতে হবে কোন প্রোডাক্টের জন্য কত পার্সেন্ট কমিশন দেওয়া হবে। আপনি চাইলে ফ্লিপকার্ট থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা আয় করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

আপনি ভাবতেই পারবেন যে এফিলিয়েট মার্কেটিং কত টাকা আয় করা যায়। আর এতো কিভাবে আয় করা যায় সেটা সত্যি ভাবার বিষয়। ইন্ডিয়ার এক বিখ্যাত ব্লগার এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনি ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র টপিকের উপর লেখালেখি করে মাসে প্রায় ৩০,০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

এটা সত্যি অবকা করে দেওয়ার মতো ঘটনা। আসলে আপনার লক্ষ্য যদি সঠিক থাকে আর সেই ভাবে যদি এগিয়ে যেতে পারেন তাহলে কোনো বাধাই আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। আমি আশা করি আপনিও অন্যান্য মার্কেটারদের মতো ইংলিশে আর্টিকেল লিখে সফল এফিলিয়েট মার্কেটার হতে পারবেন।

ইন্ডিয়ার সেই ব্যাক্তিটি হলেন “Mr.Harsh Agarwal”। এই ব্যাক্তি প্রায় ১০ বছর যাবত বিভিন্ন প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ বা ব্লগ পোস্ট করে আসছেন। ফলে প্রতিমাসে তার কয়েক লক্ষ টাকা ইনকাম হতে থাকে। তার মতে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ব্লগিং হচ্ছে সবথেকে বেস্ট উপায়।

আপনি চাইলে একটি থিম কোম্পানি বা হোস্টিং কোম্পানির প্রোডাক্ট মার্কেটিং (Product Marketing)-করার জন্য ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন। আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কোম্পানিতে যোগদান করে ১০-৩০% কমিশনে মার্কেটিং করতে পারেন।

আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট যদি প্রতিমাসে ৫০টি করেও বিক্রয় হয় তাহলে সেখান থেকে ৫,০০০ টাকার একটি প্রোডাক্টে ২০% কমিশন করে ধরলেও মাসে প্রায় ৫০,০০০ টাকা ইনকাম আসে। যেটা বছরে প্রায় ৬,০০,০০০ টাকা (Oo My God)। ডোমেইন-হোস্টিং ও থিমের দাম বেশি থাকায় এগুলো নিয়ে মার্কেটিং করতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা উত্তোলন করার উপায় :

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যে এফিলিয়েট প্রোগ্রাম রয়েছে বা মার্কেটপ্লেস রয়েছে সেখানে দেওয়া থাকবে কিভাবে আপনি টাকা উঠাতে পারবেন। বেশিরভাগ মার্কেট থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উঠানোর সুযোগ দিয়ে থাকে। এছারা অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমেও টাকা উত্তোলন করতে পারবেন যেমন- Paypal, Payoneer, Visa Card-ইত্যাদি। আপনি টাকা উইথড্র করার ক্ষেত্রে কিছু মার্কেটপ্লেস একটা লিমিট দিতে পারে। যেখান বলা হবে আপনার এতো ডলার হলে উত্তোলন করতে পারবেন, অন্যথায় পারবেন না।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার কিছু টিপস :

আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে দ্রুত সহফতা নিয়ে আসতে চান তাহলে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট (Blog website)-আর ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করুন। আর ব্লগের আর্টিকেল ইংরেজিতে লিখুন এবং ইউটিউবের ভিডিও ইংরেজিতে বানানোর চেষ্টা করুন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য সব সময় চেষ্টা করবেন প্রযুক্তি রিলেটেড কোনো প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ করতে। কারণ এটা যেহেতু অনলাইন মার্কেটিং তাই প্রযুক্তি রিলেটেড প্রোডাক্ট অনলাইনে বেশি চাহিদা রয়েছে। যেমন- ওয়েবসাইটের থিম, ডোমেইন ও হোস্টিং, স্মার্ট ফোন ও বিভিন্ন গেমস ইত্যাদি।

যদি আপনার কিছু পরিমাণ টাকা থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়াতে একাউন্ট খুলে আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট নিয়ে স্পন্সর করতে পারেন। তাহলে আপনার সফলতা আসবে দ্রুত। আর সামনের দিনগুলোতে বেশি একোটা কষ্ট করতে হবে না।

ওয়েবসাইটের যেকোনো আর্টিকেল এসইও ফ্রেন্ডলি লেখার চেষ্টা করবেন। আর আর্টিকেল ৪-৫ হাজার ওয়ার্ডের মধ্যে লেখার চেষ্টা করবেন তাহলে দ্রুত সাইট র‍্যাংক হবে। চাইলে আরো বেশি লিখতে পারেন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কম লেখার চেষ্টা করবেন না ফলে র‍্যাংক হতে সময় লাগবে।

ভুলেও কোনো আর্টিকেল কপি করবেন না। তাহলে আপনার জীবনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা আর হবে না। কারণ এর জন্য ওয়েবসাইট কখনোই র‍্যাংক করাতে পারবেন না। আর বেশি বেশি করে ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে। তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংকিং ধরে রাখতে পারবেন।

উপসংহার

আমি আজকে এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বিশদ বিবরণী আলোচনা করেছি। আশা করি আপনার কাছে আর্টিকেলটি ভালো লাগবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে নিজেকে সফল করার জন্য বেশি করে সময়কে কাজে লাগাতে হবে। নতুন কিছু করার চেষ্টা করার অভ্যাস সৃষ্টি করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর এই গাইডালাইন ভালো লাগলে বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করতে পারেন। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

আপনার কাছে পোষ্ট টি কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন ৷ T=(Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আরো ভালো ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

About SM Simol

আমি সিমুল, বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করি ও এর পাশাপাশি আমি একজন আর্টিকেল রাইটার। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সাইটে ব্লগ পোস্ট পাবলিশ করি ও "BanglaAdvice.Com"-সাইটের (এডমিন) আমি। আমার সৃজনশীল মেধাশক্তিকে কাজ লাগিয়ে আর্টিকেল তৈরি করে থাকি এবং বিভিন্ন সাইট এর আলোচিত খবর গুলো প্রকাশ করে থাকি ।

Check Also

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

ইউটিউব থেকে আয় করা যায় কিভাবে? [ ইউটিউবে আয়ের সহজ উপায় ]

বর্তমানে ইউটিউব সারা বিশ্বে সবার কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই ভিডিও প্লাটফর্ম ইউটিউব থেকে আয় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *