Wednesday , 21 October, 2020

অল্প পুঁজিতে লাভজনক ১২টি যুগান্তকারী ব্যবসার আইডিয়া, বিস্তারিত দেখুন।

ব্যবসা করার জন্য অনেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। লাভজনক বিজনেস করার সঠিক আইডিয়া না থাকায় অনেকে বিজনেস করতে চায় না। আজকে আমি স্মার্ট উপায় নতুন কয়েকটি বিজনেস আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করব। অল্প পুঁজিতে লাভজনক কিছু ব্যবসার আইডিয়া হচ্ছে পাইকারি ব্যবসা, কৃষি ব্যবসা, আইটি বিজনেস ইত্যাদি। আপনি বিজনেস করার জন্য কোনো প্লান খুঁজে না পেলে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়তে পারেন। বর্তমানে অনেক নিউ বিজনেস আইডিয়া খুঁজে পাবেন যেগুলো আপনার জন্য সেরা ব্যবসায়িক প্ল্যান হতে পারে।

আধুনিক এই যুগে প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে তেমনি ভাবে মানুষ কাজ কর্ম সহজেই করতে পারছে। অল্প পুঁজিতে অধিক পরিমাণে লাভ অর্জন করার জন্য হাজার হাজার উপায় আছে। কিন্তু আমি আপনাদের সাথে সেরা কতগুলো উপায় নিয়ে কথা বলব। আপনি যদি একজন বেকার মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে অল্প মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন। আপনার কাছে যদি মূলধন কম থাকে কিন্তু বিজনেস করতে চাচ্ছেন তাহলে একটি কথা মনে রাখবেন।

বিজনেস করার জন্য কখনো হাতে নগত টাকার প্রয়োজন হয় না। হাজার হাজার বেকার তরুণতরুণীরা ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিজনেস করা শুরু করছে তাহলে আপনি কেন বসে থাকবেন। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন বিজনেস করার জন্য কমার্স নিয়ে পড়ালেখা করতে হয় তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। আপনি যেকোনো সাবজেক্টের শিক্ষার্থী হয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।

অথবা যারা খুব একটা পড়ালেখা করেনি তারাও ব্যবসা করার জন্য নিজের মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে পারেন। বেশিরভাগ মানুষ বিজনেস করার জন্য আগ্রহী এর কারণ হচ্ছে ব্যবসা একটি স্বাধীন পেশা যেটা নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে। চাকরি করলে যেমন কোম্পানির বিভিন্ন কথা শুনতে হয় ও নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারায়।

অনেকে চাকরি করে থাকে পারিবারিক ভাবে চাপের কারণে যেটা না করলে তাঁর পরিবার বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। সুতরাং আপনার বিজনেস করতে হবে বিষয়টা তা নয়। ঘরে বসেও স্মার্ট ভাবে চাকরি করা যায় ও বিজনেস করা যায়। আপনি যদি ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করে থাকে তাহলে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং কথাটি শুনেছেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা যায় যেটা বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ তরুণতরুণীরা করছে। এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটিং করেও বিজনেস করা যায়। আর সেটা আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেই সেরা কয়েকটি বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কে।

১। টি-শার্ট বিজনেস আইডিয়া: এই ব্যবসায়টি আপনি অল্প টাকায় করতে পারবেন। বর্তমান যুগে স্মার্ট ছেলে-মেয়েরা টি-শার্ট পরতে পছন্দ করে। টি-শার্টের বিজনেস করার জন্য ভালো একটি স্থান নির্বাচন করে দোকান নিয়ে নিন। দোকানটি সুন্দর ভাবে ডেকুরেশন করার পর কোনো টি-শার্টের পাইকারি দোকান থেকে টি-শার্ট নিয়ে আসতে পারেন।

এই টি-শার্ট ব্যবসার একটি স্মার্ট উপায় আছে যেটার মাধ্যমে কয়েকগুণ বেশি বিক্রয় বাড়াতে পারবেন। এর জন্য আপনার একটি ছাপার মেশিনের প্রয়োজন হবে যেটা দিয়ে টি-শার্টের মধ্যে বিভিন্ন ছবি ও লেখা ছাপ দেওয়া যাবে। যখন কোনো দিবস বা অনুষ্ঠান হবে তখন ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিবেন টি-শার্টের মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইনের ছাপা দিয়ে অথবা দিবস বা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে। এভাবে দেখবেন আপনার টি-শার্টের কয়েকগুণ বেশি চাহিদা থাকবে। এটা আপনার জন্য খুবই সুন্দর একটি লাভজনক বিজনেস আইডিয়া হবে বলে আমি মনে করি।

২। ইলেকট্রিক বিজনেস আইডিয়া : অল্প পুঁজিতে অধিক পরিমাণে লাভ করার জন্য এই ব্যবসায়টি করতে পারেন। আপনি যদি গ্রামে এই ব্যবসায়টি দিতে চান তাহলে বাজারে বা কোনো ব্যস্ত জায়গায় দোকান দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আর শহরে দিলে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ সেখানে মানুষের চলাফেরা সবচেয়ে বেশি। ইলেকট্রনিক দোকানে আপনি টিভি, ফ্রিজ, সাউন্ড সিস্টেম ও চাহিদা মত অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি রাখতে পারেন।

এছাড়া আপনি চাইলে যেকোনো একটি পণ্য নিয়ে শোরোম দিতে পারেন। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দাম থাকার কারণে আপনার মুলধনের পরিমাণ বেশি লাগতে পারে। এছাড়া আপনি চাইলে ইলেকট্রনিক পার্সের ব্যবসা করতে পারেন। এই ব্যবসার অনেক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিজনেস করার জন্য যাদের বাজেট বেশি থাকে তাঁরা এই পার্সের ব্যবসা করে থাকে। কারণ এই ব্যবসায় প্রচুর লাভবান হওয়া যায়।

৩। কাঠের আসবাবপত্রের ব্যবসা : বিজনেস করার জন্য আপনি কাঠের ফার্নিচার বিক্রয় করতে পারেন। ক্রেতাদের চাহিদা মত ভালো মানের কাঠের আসবাবপত্র দোকানে উঠাতে পারলে আপনার বিজনেস হতে পারে লাভজনক। শহর অঞ্চলে বা কোনো ব্যস্ত জায়গায় এই দোকান দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই যারা নিজের ঘর সুন্দর করে রাখতে চায় তাঁরা মূলত আসবাবপত্রের দিকে বেশি নজর দেয়। আকর্ষনীয় ডিজাইনের ফার্নিচার তৈরী করতে পারলে ক্রেতারা এমনিতেই দোকানে ভিড় জমাবে। কাঠের ফার্নিচারের ব্যবসা করার জন্য আপনি ৮-১০ লক্ষ টাকা বাজেট ধরতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি দোকানটি বড় করে বেশি মালামাল উঠাতে চান তাহলে মূলধন আরো বেশি লাগতে পারে। আপনি যদি কাঠের আসবাবপত্র তৈরী করে বিক্রয় করতে চান তাহলে বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি লাগতে পারে। তাই চাইলে এই ব্যবসায়টি করতে পারেন।

৪। মোবাইল ফোনের বিজনেস : বর্তমান বাজারে মোবাইল ফোনের বেশ চাহিদা রয়েছে। স্মার্ট মোবাইলের চাহিদা বাড়ছে এর সাথে ব্যবসায়ীদের মুনাফাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুব অল্প টাকায় এখন ভালো মানের স্মার্ট ফোন পাওয়া যায়। তাই এই ব্যবসায়টি হতে পারে আপনার জন্য পার্ফেক্ট বিজনেস আইডিয়া। মোবাইল ফোনের বিজনেস করার জন্য আপনার মূলধন লাগবে মোবাইলের ব্রান্ড অনুযায়ী। আপনি যদি ভালো ব্রান্ডের স্মার্ট ফোন দোকানে উঠান তাহলে মূলধন লাগবে বেশি। এছাড়া যদি চায়না স্মার্ট ফোন দোকানে উঠাতে চান তাহলে অল্প বিনিয়োগ করলেই চলবে।

চায়না স্মার্ট ফোনের দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা থাকে বেশি। শহর বা কোনো বাজারের দিকে এই দোকান দিতে পারেন। যেখানে আপনার কাছে ভালো মনে হয় সেখানে দোকানটি দেওয়ার চেষ্টা করবেন কারণ স্মার্ট ফোন সব জায়গায় বিক্রয় হয় না। অনেকে আছে যাদের ব্যবসা করার জন্য বাজেট ভালো কিন্তু বিজনেস করার জন্য সঠিক স্থান ও পরিবেশ নির্বাচন করতে না পারা তাদের ব্যবসায় লাভ হয় না। কারণ ক্রেতাদের চাহিদা মতো দোকান না দিলে বিক্রয় কম হয় ফলে ব্যবসায় সফলতা আনা সম্ভব হয় না। তাই আমি বলব সঠিক পরিবেশ নির্বাচন করে স্মার্ট ফোনের দোকানটি দিবেন।

৫। কোচিং সেন্টার ব্যবসা : আপনি যদি একজন শিক্ষিত বেকার হয়ে থাকেন বা এখনো পড়াশোনা করছেন তাহলে একটি কোচিং সেন্টার খুলতে পারেন। আমাদের দেশের শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। এর জন্য শিক্ষিত বেকারদের একটি ভালো সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপনি একটি কোচিং সেন্টার খুলে শিক্ষার্থীতের পড়ানোর মাধ্যমে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

টিউশনি করার জন্য তেমন কোনো বিনিয়োগ করতে হয় না। শুধুমাত্র একটি স্থান নির্বাচন করে ঘর বা দোকানের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। টিউশনি করার মাধ্যমে একদিকে যেমন সম্মান পাওয়া যায় অন্যদিকে আপনার পড়াশোনা চর্চা থাকবে। এই ব্যবসায়টি বিনা পুঁজিতে টাকা আয় করার বিশাল সুযোগ। তাই আমি বলব আপনি শিক্ষিত হয়ে থাকেন এবং ব্যবসা করার জন্য কোনো মূলধন নেই তাহলে এই বিজনেসটি আপনার জন্য সেরা হবে।

৬। কাঁচামালের বিজনেস : অল্প টাকায় এই ব্যবসায়টি করা যায়। আপনি চাইলে শাকসবজি চাষ করতে পারেন অথবা পাইকারি দামে কাঁচামাল ক্রয় করে বাজারে বিক্রয় করতে পারেন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য কাঁচামালের পণ্য অপরিসীম। প্রতিদিন রান্না করার জন্য কাঁচামালের প্রয়োজন হয়। আপনি চাইলে প্রতিদিন পাইকারি দামে কাঁচামাল ক্রয় করে বিক্রয় করতে পারেন। আপনার যদি ব্যবসা করার জন্য মূলধনের পরিমাণ কম থাকে তাহলে এই ব্যবসায়টি করতে পারেন। আর যদি কোনো জমি থাকে তাহলে সেখানে শাকসবজি চাষ করে পাইকারদের কাছে বা নিজের বাজারে বিক্রয় করতে পারেন।

৭। মেয়েদের কাপড়ের বিজনেস : যেকোনো কাপড়ের বিজনেস করতে পারলে খুব সহজেই লাভবান হওয়া যায়। মেয়েরা সবসময় নতুন ডিজাইনের কাপড় পছন্দ করে। মেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী কাপড়ের বিজনেস করতে পারলে আপনার বিক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে যাবে। মেয়েরা বিভিন্ন কাপড় ক্রয় করে থাকে যেমনঃ থ্রি-পিস, শাড়ি কাপড়, ওড়না ইত্যাদি। গ্রামের বাজারে বা শহরে কোনো একটি দোকান নির্বাচন করে কাপড়ের বিজনেস শুরু করে দিতে পারেন।

আর যদি শহরে কোনো মার্কেটে মেয়েদের কাপড়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে উত্তম হবে। কাপড়ের ব্যবসা করার জন্য আপনার বাজেট থাকতে হবে কয়েক লক্ষ টাকা। আপনার দোকানটি যদি সুন্দর ভাবে লাইটিং ও ডেকুরেশন করতে পারেন তাহলে ক্রেতাদের ভিড় থাকবে অনেক। আর এমনিতেও মেয়েরা সুন্দর পরিবেশ বেশি পছন্দ করে।

যেহেতু আপনি মেয়েদের কাপড়ের দোকান দিবেন তাই আপনার লক্ষ থাকবে মেয়েদের রুচির উপর। মেয়েরা যেসব কাপড় ও স্টাইল পছন্দ করে সেইসব জিনিস দোকানে উঠানোর চেষ্টা করবেন। ব্যবসা করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে হাসিমুখে কথা বলা, ভালো ব্যবহার করা ইত্যাদি। সুতরাং আপনার যদি বাজেট ভালো থাকে তাহলে কাপড়ের বিজনেস করতে পারেন।

৮। আইসক্রিমের বিজনেস : ছোট থেকে শুরু করে বড় মানুষ পর্যন্ত আইসক্রিম পছন্দ করে। আর বিভিন্ন ফ্লেভারের আইসক্রিম হয়ে থাকলে তরুন-তরুনীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয় হয়ে উঠে। আমাদের দেশে গরম বেশি পরার কারণে আইসক্রিমের চাহিদা অনেক। আপনি যদি আইসক্রিম সম্পর্কে ভালো জেনে থাকেন বা আইসক্রিমের ফ্যাক্টর দিতে চাচ্ছেন তাহলে ছোট একটি ফ্যাক্টর দিতে পারেন অল্প কিছু মূলধন নিয়ে।

এছাড়া কোনো ব্যস্ত জায়গায় আইসক্রিমের দোকান দিতে পারেন। আপনি যদি বিভিন্ন রকমের ফ্লেভারের আইসক্রিমের দোকান দিতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসায় লাভবান হতে পারবেন অনেক। অন্যদিকে আপনি চাইলে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কারণ শিক্ষার্থীরা আইসক্রিম অনেক পছন্দ করে ফলে আপনার বিক্রয়ের পরিমাণ হবে অনেক।

৯। ব্যানার ও সাইনবোর্ডের বিজনেস : আমাদের দেশে বিভিন্ন দিবস ও ওয়াজ মাহফিল হয়ে থাকে। এর জন্য প্রচুর পোস্টার ও ব্যানারের প্রয়োজন হয়। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ জানে তাঁরা এই ব্যবসা করে অনেক লাভবান হতে পারেবন।

ব্যানার ও সাইনবোর্ডের বিজনেস করার জন্য আপনার ছাপার মেশিনের দরকার হবে। এই ব্যবসা করার জন্য তেমন কোনো মূলধনের প্রয়োজন হয় না। আপনার একটি দোকান ও মেশিন লাগবে এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে হবে। আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন না জানেন তাহলে বিভিন্ন আইটি সেন্টার থেকে খুব সহজেই কয়েক মাসের মধ্যে শিখে নিতে পারেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখলে আপনার বিভিন্ন ভাবে ইনকাম করার সুযোগ থাকবে। আপনি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করেও মাসে হাজার-লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সুতরাং আপনি চাইলে অল্প বিনিয়োগে এই ব্যবসায়টি করতে পারেন।

১০। ৯৯ গিফট শপ বিজনেস আইডিয়া : এই ব্যবসায়টি খুবই জনপ্রিয় একটি ব্যবসা। কারণ স্বল্প মূল্যে আকর্ষনীয় পণ্য পাওয়া যায়। যারা ঘর সুন্দর করে রাখতে চায় তাঁরা অল্প টাকায় ভালো পণ্য কিনে নিজের ঘর আকর্ষনীয় করে তুলে। বাজারে বিভিন্ন জায়গায় আপনি ৯৯ গিফট শপের দোকান দেখতে পারবেন। যেখানে ভালো মানের গিফট পাওয়া যায় বন্ধুবান্ধবদের দেওয়ার জন্য।

এই ব্যবসায়টি তরুন-তরুনীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয় করে তুলে। কারণ তাঁরা বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে একজন অন্যজনকে গিফট করে থাকে। আপনি খুব অল্প টাকার মধ্যে ওয়ান টু নাইনটি নাইন গিফট শপের দোকান দিতে পারবেন। এইসব দোকানে বিভিন্ন রকমের পণ্য থাকায় মানুষ বেশি ভিড় করে। সুতরাং আপনার জন্য এই বিজনেস আইডিয়া সবচেয়ে আকর্ষনীয় হতে পারে।

১১। ইলেকট্রনিক্স সার্ভিসিং সেন্টার : আপনার যদি ইলেকট্রনিক কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে তাহলে এই ব্যবসায়টি করতে পারেন। আপনি কোনো স্থানে একটি ইলেকট্রনিক্স সার্ভিসিং সেন্টার দিয়ে ব্যবসা করে লাভবান হতে পারবেন। এর জন্য আপনার তেমন কোনো মূলধন বিনিয়োগ করা লাগবে না।

আপনি যদি ইলেকট্রনিক কাজ না জানেন কিন্তু এই ব্যবসায়টি করতে চান তাহলে কোনো ট্রেনিং সেন্টার থেকে কাজ শিখে নিতে পারেন। বর্তমানে মানুষ ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ছাড়া কোনো কাজ করতে পারে না। ইলেকট্রনিক্স জিনিসের চাহিদা থাকায় অনেকে সার্ভিসিং সেন্টার দিচ্ছে। কারণ জিনিসের ব্যবহার বেশি বলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক। সুতরাং আপনি যদি অল্প পুঁজিতে বিজনেস করতে চান তাহলে ইলেকট্রনিক্স কাজ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

১২। খেলাধুলার সরঞ্জাম : তরুণ-তরুনীরা খেলাধুলা করতে পছন্দ করে এবং যারা খেলাধুলা ভালোবাসে তাঁরা বয়সের কথা চিন্তা না করে খেলাধুলা চালিয়ে যায়। আপনি যদি একটি খেলাধুলা সরঞ্জামের দোকান দিতে পারেন তাহলে দোকানটি অনেক চলবে বলে আমি মনে করি। সময় অনুযায়ী খেলাধুলা করে থাকে আমাদের দেশের মানুষ। শীতের দিনে আমাদের দেশের মানুষ ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট ও ভলিবল খেলতে পছন্দ করে। অন্যদিকে গরমের দিনে ফুটবল খেলতে মানুষ বেশি পছন্দ করে।

তাই আপনি চেষ্টা করবেন মৌসম অনুযায়ী খেলাধুলার সরঞ্জাম দোকানে উঠাতে। এই টিপসটি আপনি যদি ব্যবহার করেন তাহলে আপনার পণ্য বিক্রয়ের চাহিদা থাকবে বেশি। এই বিজনেস করার জন্য মোটামুটি মূলধন বিনয়োগ করতে পারেন। আপনার যদি বেশি মূলধন না থাকে এই ব্যবসায়টি করতে পারেন। এছাড়া আপনি চাইলে খেলোয়াড়দের ব্যয়াম করার জন্য বিভিন্ন মেশিনও উঠাতে পারেন। সুতরাং এই বিজনেস আইডিয়া আপনার জন্য সেরা হতে পারে।

বিজনেস আইডিয়া নিয়ে শেষ কথা: আপনি যদি বিজনেস আইডিয়া খুঁজে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার চেষ্টা করবেন। এছাড়া যারা বেকার তাদের জন্য ব্যবসার এই আইডিয়াগুলো অনেক উপকারে আসবে। আমরা চাই দেশের প্রতিটা বেকার মানুষ যেন আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারে। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ!

About Lipu Chowdhury

Check Also

একদিনে রেকর্ড পরিমাণে কমলো স্বর্ণের দাম,মার্কেটে প্রচুর ক্রেতা।

পুজো যতদিন এগোচ্ছে ততোই দাম কমছে সোনার। চলতি স’প্ত াহে প্রথম থেকেই প্রায় নিম্নমুখী ছিল ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *